বর্তমান ওয়েব ডিজাইন শুধু দেখানোর জন্য নয়—সবার জন্য ব্যবহারযোগ্য করতে হয়।
কিন্তু সবাই কি সমানভাবে ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারে?
যদি কোনো ব্যবহারকারী শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে আপনার তৈরি ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে না পারেন, তবে সেটি একটি বড় সমস্যা — এখানেই আসে ADA বা Americans with Disabilities Act।
এই ব্লগে আমরা জানবো:
✅ ADA আসলে কী?
✅ এটা ওয়েব ডিজাইনের সাথে কিভাবে সম্পর্কিত?
✅ কেন এটা গুরুত্ব সহকারে মানা উচিত, বিশেষ করে একজন ওয়েব ডিজাইনার বা ফ্রিল্যান্সারের জন্য?
✅ এবং শেষাংশে থাকছে বাস্তব উদাহরণ ও সমাধানের পথ।
ADA কী?
ADA এর পূর্নরুপ হলো – Americans with Disabilities Act যা ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রণীত একটি আইন। এই আইনের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা হয়।
শুরুতে এই আইনটি ফিজিক্যাল জায়গাগুলোর জন্য প্রযোজ্য ছিল। যেমন রেস্টুরেন্ট, দোকান, অফিসগুলোতে প্রতিবন্ধীদের জন্য হুইল চেয়ার এক্সেসেবল করা বাধ্যতামূলক।
কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মও এর আওতায় চলে আসে। এখন ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ ইত্যাদিকে ADA অনুযায়ী তৈরি করতেই হয় যেন সব ধরনের মানুষ—বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও—এসব সমানভাবে ব্যবহার করতে পারেন।
যেমন:
- অন্ধ ব্যাক্তি যেন স্ক্রিন রিডার দিয়ে ওয়েবসাইট পড়তে পারেন।
- শ্রবণ প্রতিবন্ধী ব্যবহারকারী যেন ভিডিওর ক্যাপশন পড়ে বুঝতে পারেন।
- যাদের হাতের নড়াচড়া সীমিত, তারা যেন কিবোর্ড দিয়েও সহজে ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন।
ওয়েব ডিজাইনারের ভূমিকা কী?
একজন ওয়েব ডিজাইনারের ADA বিষয়ক দায়িত্ব অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
আপনি যদি ওয়েব ডিজাইনার হন, তাহলে আপনার কাজ শুধুমাত্র ওয়েবসাইটের সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়। সবার জন্য সহজবোধ্য ও ব্যবহারযোগ্য ডিজাইন তৈরি করতে আপনি বাধ্য, ADA তাই বলে। এমনকি জরিমানার বিধানও আছে।
কীভাবে?
- প্রতিটি ছবির জন্য alt text দিতে হবে যেন স্ক্রিন রিডার তা পড়ে বোঝাতে পারে। এবং alt text অবশ্যই রিলেভেন্ট হতে হবে।
- ভিডিও থাকলে ক্যাপশন ও ট্রান্সক্রিপশন দিতে হবে।
- ফর্ম, বাটন ও মেনুগুলো কিবোর্ড ব্যবহারকারীর জন্য সহজ করতে হবে।
- কালার কনট্রাস্ট এমন হতে হবে যেন রঙ অন্ধ ব্যবহারকারীরাও বুঝতে পারেন।
- শুধু রঙ বা শব্দের উপর নির্ভর করা যাবে না, লিখিত বা দৃশ্যমান বিকল্প থাকতে হবে।
এভাবে একজন ডিজাইনার হিসাবে আপনি একজনের জন্য নয়, সবার জন্য ডিজাইন তৈরি করবেন—এটাই ADA-এর মূল শিক্ষা।
আইন না মানলে জরিমানা কত?
ADA (Americans with Disabilities Act) অনুযায়ী ওয়েবসাইট অ্যাক্সেসিবিলিটি নিশ্চিত করা না হলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক জরিমানা ও আইনি জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়।
⚖️ জরিমানার পরিমাণ
- প্রথমবার লঙ্ঘন: সর্বোচ্চ $75,000 USD জরিমানা।
- পরবর্তী লঙ্ঘন: সর্বোচ্চ $150,000 USD জরিমানা।
এই জরিমানাগুলো 2014 সালে সর্বশেষ মুদ্রাস্ফীতি অনুযায়ী সমন্বয় করা হয়েছে এবং 2014 সালের 28 এপ্রিলের পর ঘটে যাওয়া লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। AudioEye
🧑⚖️ ব্যক্তিগত মামলা ও অতিরিক্ত খরচ
প্রতিবন্ধী কোনো ব্যক্তি যদি অভিযোগ করেন যে ওয়েবসাইট তাদের জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য নয়, তবে তারা সরাসরি কোর্টে মামলা করতে পারেন। এর ফলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সম্মুখীন হতে হয়:
- আইনি ফি
- ক্ষতিপূরণ
- ওয়েবসাইট পুনরায় ডিজাইন ও উন্নয়ন খরচ
এইসব খরচ মিলিয়ে মোট আর্থিক ক্ষতি লক্ষাধিক ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
Domino’s Pizza মামলার উদাহরণ
২০১৬ সালে, দৃষ্টিহীন ব্যক্তি Guillermo Robles অভিযোগ করেন যে Domino’s Pizza-এর ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ স্ক্রিন রিডার ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য নয়।
এই মামলাটি দীর্ঘ ছয় বছর ধরে বিভিন্ন আদালতে চলে এবং ২০২২ সালের জুন মাসে একটি গোপন সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়। wired.com+5National Compliance Group+5Boia+5Accessibility.com
এই মামলার ফলে স্পষ্ট হয় যে, ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকেও ADA-এর আওতায় আনতে হবে এবং সেগুলোকে সকলের জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য করতে হবে।
কাদের জন্য জরিমানা প্রযোজ্য?
ADA লঙ্ঘনের জন্য জরিমানা মূলত যুক্তরাষ্ট্রে কার্যরত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রযোজ্য।
তবে, যেসব আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান বা ফ্রিল্যান্সাররা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্লায়েন্টদের জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করেন, তাদেরও এই আইন সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।
কারণ তাদের ডিজাইন করা ওয়েবসাইটগুলো ADA-এর আওতায় পড়তে পারে।
✅ সমাধানের পথ
- WCAG (Web Content Accessibility Guidelines) অনুসরণ করে ওয়েবসাইট ডিজাইন করুন।
- স্ক্রিন রিডার ফ্রেন্ডলি কনটেন্ট তৈরি করুন।
- ছবি ও ভিডিওর জন্য বিকল্প টেক্সট (alt text) এবং ক্যাপশন যুক্ত করুন।
- কীবোর্ড নেভিগেশন নিশ্চিত করুন।
- কালার কনট্রাস্ট ও ফন্ট সাইজ এমনভাবে নির্ধারণ করুন যেন দৃষ্টিশক্তি সীমিত ব্যবহারকারীরাও সহজে পড়তে পারেন।
এই পদক্ষেপগুলো অনুসরণ করে আপনি আপনার ওয়েবসাইটকে সকলের জন্য অ্যাক্সেসযোগ্য করে তুলতে পারেন এবং আইনি ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকতে পারেন।
আপনি যদি সত্যিকার অর্থেই একজন প্রফেশনাল ওয়েব ডিজাইনার হতে চান, তাহলে ADA সম্পর্কে গভীরভাবে জানতে হবে। আর সেই জ্ঞান পেতে হলে আপনাকে এমন জায়গা খুঁজতে হবে যেখানে ADA শেখানো হয়—
👉 Mentor-ই বাংলাদেশের একমাত্র প্ল্যাটফর্ম, যেখানে ওয়েব ডিজাইনের সাথে সাথে আপনি শিখবেন কিভাবে ADA ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট তৈরি করবেন।
📚 আমাদের কোর্সগুলোতে আপনি ADA গাইডলাইন অনুযায়ী প্র্যাকটিকাল প্রজেক্টে কাজ করার সুযোগ পাবেন, যা আপনাকে আন্তর্জাতিক মানের ওয়েব ডিজাইনার হতে সাহায্য করবে।
🎓 আজই ভর্তি হোন Mentor-এর কোর্সে, হয়ে উঠুন একজন সচেতন, আধুনিক ও বিশ্বমানের ওয়েব ডিজাইনার।
উপসংহার: ADA গুরুত্ব বুঝতে পেরেছেন?
আশা করি এই ব্লগ পোস্টটি থেকে আপনি বুঝতে পেরেছেন—ADA শুধু একটি আইন নয়, এটি একটি দায়িত্ববোধ, যা আমাদের ডিজাইন ও উন্নয়ন প্রক্রিয়াকে আরও মানবিক ও সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করে।
আমরা যদি চাই সবাই যেন সহজেই ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারে—বিশেষ করে যারা দৃষ্টি, শ্রবণ, বা চলাচলে প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হন—তাহলে আমাদের ওয়েব ডিজাইন ADA অনুসারে করতে হবে।
আপনার যদি ADA বা এক্সেসিবিলিটি নিয়ে কোনো প্রশ্ন থাকে, নির্ভয়ে নিচে কমেন্ট করুন। আমরা আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে সদা প্রস্তুত।